প্রানের উচ্ছ্বাসে বিপুল উৎসাহে রাজবাড়ী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের বনভোজন

599

বাংলা অক্ষর টনি নিউ ইর্য়কঃ

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বার্ষিক বনভোজন অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশ ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো রাজবাড়ী ডিষ্ট্রিষ্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের বার্ষিক বনভোজন  ২০১৮।

রবিবার দিনব্যাপী এই বনভোজনে মধ্যাহ্নভোজ শেষে র‌্যাফল ড্র, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গত রবিবার ১২ আগষ্ট নিউইয়র্কস্থ টোমাস বুল মেমোরিয়াল পার্কে  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত লেক পাড়ের কোল ঘেষে গাছপালা ঘেরা সবুজ পার্কে বনভোজনের আয়োজন করেন। এতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী রাজবাড়ী বাসী তাদের সন্তানাদি, মা-বাবা, শশুড়-শাশুড়ি সহ এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেন। চমৎকায় আবহাওয়া ও পরিবেশে অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের অনেকেই সপরিবারে যোগ দিয়ে  রাজবাড়ী ডিষ্ট্রিষ্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন বার্ষিক বনভোজন প্রাণবন্ত করে তোলেন। বিশাল পার্কের সবুজ গাছের ছায়ায় বাংলাদেশী স্টাইলে চাদর বিছিয়ে তারা আড্ডায় মেতে উঠেন।সকাল ৯ টায় বিলাস বহুল দুটি বাসে জ্যামাইকা থেকে টোমাস বুল মেমোরিয়াল পার্কে উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়। এছাড়াও ২০টার অধিক প্রাইভেট কারে নিউইয়র্ক, নিউজার্সী, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট থেকেও রাজবাড়ী বাসীরা অনুষ্ঠান স্থলে পৌছাতে থাকেন। বাসের মধ্যেই  ব্রোক্স নিরব রেষ্টুরেন্টের পরিবেশিত সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। শুরুতেই কোরান থেকে তেলোয়াত পাঠ করেন রেডোয়ান চৌধুরী।

পিরজাদা নুরুল আবেদিন আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য, খেলাধুলা, র‌্যাফল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর আড্ডা। দুপুর ১২ টায় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউ এসের সাধারন সম্পাদক ও আহবায়ক মোহাম্মাদ আব্দুস সালাম আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দদেরকে সাথে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে রাজবাড়ীর  বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব মোঃ আবিদুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক উপ সচিব এ.বি মুহাম্মদ আলী,  আব্দুর লতিফ বিশ্বাস, ফরিদপুর রাজেনদ্র কলেজের সাবেক ভিপি মাজেদুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ইউ এসের সভাপতি পিরজাদা নুরুল আবেদিন। 

আহবায়ক মোহাম্মাদ আব্দুস সালাম সকল সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদানের পর প্রদান অতিথি বনভোজন অনুষ্ঠানের  সবাইক নিয়ে বেলুন উরিয়ে শুভ সূচনা ঘোষনা করেন।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বনভোজন আয়োজনে এবং তাঁকে আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আয়োজনের জন্য সমিতির সকল কর্মকর্তাবৃন্দের প্রশংসা করেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথিরা। সকলেই সমিতিকে আরও কার্যকর এবং প্রবাসী সদস্যদের জন কল্যানে ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানান। অন্যান্য বক্তারা বলেন, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়  রাজবাড়ী  এগিয়ে যাচ্ছে। যার প্রমাণ এই বারের বনভোজন। রাজবাড়ী বাসীর সরব উপস্থিতিতে বনভোজন মিলন মেলা পরিনত হয়।

যা ছিল সত্যিই আনন্দের। তারা বনভোজনে ভূলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করেন এবং আগামীতে  রাজবাড়ী  ডিষ্ট্রিষ্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ব্যানারে যে কোন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করার আহবান জানান। আহবায়ক মোহাম্মাদ আব্দুস সালাম উপস্থিত সকলকে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সুন্দর একটি বনভোজন আয়োজনে সকলকে সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

উদ্বোধনের পর থেকে বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় খেলাধুলা। বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে ছিলো শিশু-কিশোর-কিশোরীদের দৌড়, মহিলাদের মিউজিক্যাল পিলো ও  ছেলেদের ফুটবল প্রীতিম্যাচ। বনভোজনে সংগঠনের সদস্যসহ প্রায় ২ শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজক নেতৃবৃন্দ দাবী করেন
দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় শিশু কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। বয়স ভিত্তিক তিন শ্রেণীতে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এটি পরিচালনা করেন পাপিন, সামিম , রফিকুল। শিশু-কিশোরদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বনভোজনে অংশগ্রহনকারী বয়স্করাও বয়সের সীমাবদ্ধতা ভুলে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। এরই মধ্যে পরিবেশিত হয় হালকা খাবার। বিভিন্ন ধরনের আনন্দ আয়োজন উপভোগ করতে করতে মধ্যাহ্ন ভোজের সময় হয়ে যায়। দুপুর গড়াতেই পরিবেশিত হয় দুপুরের খাবার।হরেক পদের মুখরোচক খাবার খেয়ে সবাই তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে থাকে ব্রোন্সের নিরব রেষ্টুরেন্টের।

খাবার পরিবেশনে ছিলেন মোঃ আজগর আলী, তুহিন, শোহেল,  মোঃ নাঈম খান, এমদাদুল হক পাপিন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, ফজলে সাফি  প্রমূখ। দুপুরের খাবারের পর শুরু হয়  মহিলাদের বাদ্যের সাথে সাথে বালিশ খেলা। এটি পরিচালনা করেন  রফিকুল ইসলাম, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, রনজ্ঞুল হক শামীম। বিচারক মন্ডলী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, আবুল কালাম আজাদ, দুলাল মোল্লা, হাফিজুর রহমান, আক্রাম হোসেন ফরিদ।

এরপর সাংস্কৃতিক পর্ব আহমেদ আতিকের একক সংঙ্গীতা অনুষ্ঠান।
বনভোজনের শেষ আকর্ষণ ছিল র‌্যাফেল ড্র। এটি পরিচালনা করেন মোঃ রফিকুল ইসলাম ও সামিম। সহযোগিতায়  আহম্মেদ আতিক ও  মনিরজ্জামান মুন্না। 
সবশেষে র‌্যাফেল ড্রসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
র‌্যাফেল ড্র-র প্রথম পুরস্কার ছিল ৫৫ ইঞ্চি অত্যাধুনিক টিভি। এছাড়াও  ৪৫ ইঞ্চি টিভি, ল্যাপটব, আইপ্যাড, টেবলেট, মোবাইল ফোন, প্রিন্টার মাইক্রোয়েভ, স্ট্যান্ড ফ্যান সহ ১১ টি  পুরুস্কার। পুরস্কার গুলো স্পন্সারদের সকলকেই সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।

র‌্যাফেল ড্র-র প্রথম পুরস্কারটি ৫৫ইঞ্চি  টিভি জয়ী হন সাঈফ ইকবাল (নং ৪৪০)
দ্বিতীয় পুরস্কার: ৪০ ইঞ্চি এলইডি টিভি-। তৃতীয় পুরস্কার: স্মার্ট ল্যাপটপ-। চতুর্থ পুরস্কার: ল্যাপটপ। পঞ্চম পুরস্কার: স্মার্ট ট্যাব। ষষ্ঠ পুরস্কার: ক্যামারা,। সপ্তম পুরস্কার: মাইক্রোয়েব। অষ্টম পুরস্কার:  টাওয়ার ফ্যান। নবম পুরস্কার: প্রিন্টার,। দশম পুরস্কার: ডিনার সেট। একাদশ পুরস্কার:  ডিনার সেট। এছাড়া বনভোজনের অংশগ্রহণকারি প্রায় ২ শতাধিক, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-কিশোরী সবাইকে শ্রেণীভেদে ভিন্ন ভিন্ন সান্তনা পুরস্কার দেয়া হয়।

বালিকা ৪-৭ বছর দৌড়ে প্রথম হয়েছে সারা হক দ্বীত্বয় হয়েছে রায়য়া তৃত্বীয় হয়েছে সারা। বালক  ৪-৭ বছর দৌড়ে প্রথম হয়েছে ছাদিক, দ্বিতয় হয়েছে বাপ্পি, তৃত্বীয় হয়েছে মাষ্টার সরওয়ার।

বালক ৮-১২  বছর দৌড়ে প্রথম হয়েছে রাতুল, দ্বীত্বয় হয়েছে রাফি, তৃত্বীয় হয়েছে তওসীফ। বালক  ১৩-১৮  বছর দৌড়ে প্রথম হয়েছে রায়হান,  দ্বীত্বয় হয়েছে রাফি, তৃত্বিয় হয়েছে রাকিব। মহিলাদের বালিশ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে লিজা, দ্বীত্বয় হয়েছে লাবনী, তৃত্বিয় রাফিয়া, ৪র্থ মাসুমা, ৫ম রিপা। ফুটবল খেলায় রাজবাড়ী ২- ০ গোলে নিউ ইর্য়ককে পরাজিত করেন। সেরা খেলোয়ার নাঈম খান ও  আল-রাফি। খেলা পরিচালনা করেন এমদাদুল হক পাপিন।

রাজবাড়ী ডিষ্ট্রিক্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউ এস এর বনভোজন আয়োজন সফল করতে আন্তরিক সহযোগীতায় যারা ছিলেন,তারা হলেন আব্দুস সালাম, মুস্তাফিজুর রহমান লিটন, মোঃ সুখেন্দ বিশ্বাস, আকরাম হোসেন ফরিদ, এমদাদুল হক পাপিন, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ মনোয়ার হোসেন, আবিদুর রহমান, অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, এনামুল হক দুলাল,আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, মোঃ আলী, মাকসুদুর রহমান, সিকদার আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাঈন উদ্দিন, আকবর হোসেন মন্ডল, নাসির উদ্দিন, হিমাংশু হায়দার, সজল দও, মাসুদ রানা, অশোক দাস,আবুল বাসার,রাকিব উদ্দন মিয়া, খন্দকার রাকিব, আব্দুর রাশেদ, মোহাম্মাদ রিয়াজ, কাজি মিরাজ, মনিরুজ্জামান মুন্না, আতিকুর রহমান  প্রমূখ।

শেষে আনন্দ ঘন এ মহামিলনের সমাপ্তি ঘোষনা করেন রাজবাড়ী ডিষ্ট্রিক্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউ এস এর বনভোজন কমিটির আহবায়ক মোহাম্মাদ আব্দুস সালাম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.