নারী নির্যাতনকারী যেই হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

5

ঢাকা: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের সাথে যারাই যুক্ত থাকুক এবং যে পরিচয়ই ব্যবহার করুক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

সোমবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তানিয়া সুলতানা হ্যাপি রচিত ‘আমি হবো আগামীদিনের শেখ হাসিনা’ শিশুতোষ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদেরকে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় বিএনপি’র মন্তব্য ‘সরকারের জবাবদিহিতার অভাবে দেশে খুন-ধর্ষণ বাড়ছে’ এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন. ‘এই বিএনপিই দলীয়ভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশে নারী ধর্ষণ করেছে। ২০০১ সালের পর ৮ বছরের শিশুকে, অন্ত:সত্ত্বা মহিলাকে এমনকি নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে পুরো গ্রাম অবরুদ্ধ করে সেখানকার মহিলাদের ধর্ষণ করা হয়েছে। সেই দু:সহ স্মৃতি এখনো অনেকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা দলীয়ভাবে এ ধরনের অপকর্ম করেছে এবং এর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই, তাদের এ নিয়ে কথা বলার কতটুকু নৈতিক অধিকার আছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন,  ‘এ ধরণের অপকর্মের সাথে যারা যুক্ত তারা দুষ্কৃতিকারী, তাদের কোনো অন্য পরিচয় থাকতে পারেনা। এ ধরণের দুষ্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। ইতিপূর্বে এ ধরণের ঘটনায় অনেক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।’

এ ধরণের আগেও ঘটতো কিন্তু আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এমন ব্যাপকতা না থাকায় অনেক ঘটনাই আড়ালে থেকেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন বেশিরভাগ ঘটনা আড়ালে থাকে না। প্রায় সব ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা নারী নির্যাতন-ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং এই বিষয়গুলো যারা তুলে ধরছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। এতে করে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরণের অপকর্ম যারা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সহজতর হচ্ছে।’

এ ধরণের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করার কোনো অবকাশ নেই কিন্তু এগুলোকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার জন্য মাঝেমধ্যেই বিএনপি’র পক্ষ থেকে অপচেষ্টা চালানো হয় জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। অথচ তারা সকালে একবার, দুপুরে একবার, আবার বিকেলে আরো একবার সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে। মির্জা ফখরুল সাহেব বললে তার সাথে প্রতিযোগিতা দিয়ে রিজভী সাহেব বা আরো দু-একজন নেতা সকাল-বিকাল-দুপর বিষোদগার করে আর বলে, আমাদের কথা বলার অধিকার নেই, যা হাস্যকর।’

‘আমি হবো আগামীদিনের শেখ হাসিনা’ শিশুতোষ গ্রন্থরচয়িতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শিশুরাই আমাদের জাতির ভবিষ্যত এবং আজকের এই দিনে যেদিন প্রধানমন্ত্রী শিশু দিবসের উদ্বোধন করেছেন, সেদিন এ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন তাৎপর্যপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে তথ্যসচিব কামরুন নাহার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং গ্রন্থরচয়িতা তানিয়া সুলতানা বই পরিচিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তথ্যসচিব কামরুন নাহার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন, অগ্রগতি ও নারী ক্ষমতায়নে পৃথিবীর সামনে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তার জীবন ও কর্ম আমাদের শিশু-কিশোরসহ সকলের জন্য অনুসরণীয়।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী সোহানা জেসমিন, লেখক জাহাঙ্গীর আলম শোভন, সংস্কৃতিকর্মী দিপু সিদ্দিকী, নাদিবা পারভীন লাকী, নাজনীন সুলতানা নাজু, আজিমুন রুমা, নাহিদ নাজ, জামান নূর ও শিশুশিল্পী হামীম, ওমর, অনিরুদ্ধ, সাদিয়া, সারামনি, রাইফ, জুঁই, চামেলি, রামিয়া, রামিম, আবরার, সাবীত ও হাসিব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.