সকালে হাঁটাহাটির সঙ্গে গণভবনের লেকে মাছও ধরেন প্রধানমন্ত্রী

3

ঢাকা: করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে প্রাত্যহিক জীবনে কিছুটা পরিবর্তন এনে সকালে হাঁটাহাটি নিয়মিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেই ফাঁকে গণভবনের লেকে বড়শি ফেলে মাছও ধরেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “ঘুম থেকে উঠার পর শিশুরা মা খোঁজে, যুবকেরা বউ খোঁজেন, আমি মোবাইল খুঁজি। তা দেখে আমার মা ঝাড়ু খোঁজেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী খোঁজেন?”

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, সকালে উঠে আমি কী খুঁজি? আমি জায়নামাজ খুঁজি। সকালে উঠেই আগে নামাজ পড়ি। নামাজ পড়ার পর কোরআন তিলওয়াত করি। তারপরে এক কাপ চা নিজে বানাই। আমার সকালের চা টা আমি নিজে বানিয়ে খাই। চা বানাই, কফি বানাই যা বানাই নিজে বানাই। আমার ছোট বোন থাকলে আমার ছোট বোন আর আমি দুইজন যে আগে উঠে সে বানায়। এখন পুতুল আছে, আমার মেয়ে আছে। যে ঘুম থেকে আগে উঠে সেই বানায়। আমরা নিজেরা করে খাই।

“তার আগে বিছানা থেকে নামার সাথে সাথে নিজের বিছানাটা গুছিয়ে রাখি নিজের হাতে। এরপর বইটই যা পড়ার পড়ি আর ইদানিং এই করোনাভাইরাসের পর সকালে একটু হাঁটতে বের হই।

“তবে আরেকটা কাজ করি এখন, সেটা আবার বললে কি হবে কি জানি,” বলে হেসে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণভবনে একটা লেক আছে মাননীয় স্পিকার। এখন যখন হাঁটতে যাই হেঁটে লেকের পাড়ে যখন বসি তখন একটা ছিপ নিয়ে বসি, মাছও ধরি।”

প্রশ্নে ফখরুল ইমাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রশ্ন করেন, “‘আপনি চাকরি করেন। আপনার মায়না দেয় ওই গরিব কৃষক। আপনার মায়না দেয় ওই গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়, আমি গাড়ি চলি ওই টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলুন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলুন, ওরাই মালিক’- আমরা সবাই জানি এই কথাটা কার। আমার প্রশ্ন হল যে, এখনও এই সরকার এই কথাটার উপরে ভরসা করেন কি না।”

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও কিন্তু সেটাই বিশ্বাস করি। যে কারণে আমরা ছোটবেলা থেকে সেভাবেই শিক্ষা নিয়েছি। আমার বাবার নির্দেশ ছিল, একজন রিকশাওয়ালাকে আপনি করে কথা বলতে হবে। বাড়ির ড্রাইভারকে ড্রাইভার সাহেব বলতে হবে। আর কাজের যারা লোকজন তাদের কখনও চাকরবাকর বলা যাবে না, হুকুম দেওয়া যাবে না। তাদের কাছে সম্মান করে ভদ্রভাবে চাইতে হবে।

“যে কারণে প্রধানমন্ত্রী হতে পারি কিন্তু এখনও আমার বাড়িতে যে ছোট কাজের মেয়েগুলো…যারাই আছে কারও কাছে যদি এক গ্লাস পানিও কখনও চাইতে হয়, যতদূর পারি নিজে করে খাই। যদি চাইতে হয় তাহলে কিন্তু তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি, আমাকে এইটা একটু দিতে পারবে? এই শিক্ষাটা আমরা নিয়ে আসছি। এটা এখনও আমরা মেনে চলি। এটা আমার বাবারই শিক্ষা।”

শেখ হাসিনা বলেন, “শুধু তিনি (বঙ্গবন্ধু) বলে গেছেন তা না। সেই শিক্ষাটা আমাদের দিয়েও গেছেন। কাজেই সেই দিক দিয়ে আমি মনে করি, আমাদের সকলেই… মানুষ গরিব দেখলে বা ভালো পোশাক না পরলেই তাকে অবহেলা করতে হবে আমাদের কাছে কিন্তু সেটা না।

“আমাদের কাছে সকলে সমান সমাদর পায়। বরং যাদের কিছু নাই তাদের দিকে আমরা একটু বেশি নজর দেই, দৃষ্টি দেই।”

Leave A Reply

Your email address will not be published.