সিঙ্গাপুর থেকে শুরু হচ্ছে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা

41

ঢাকা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিঙ্গাপুর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করতে ফেব্রুয়ারিতেই সেখানে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে।

আগামী এপ্রিল থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার কাজ শুরু করতে চান জানিয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, সব ঠিক থাকলে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাই প্রথম এ সুযোগ পাবেন।

ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল দশকখানেক আগে। এরপর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার দাবিও আলোচনায় আসে।

তবে ভোটারদের বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত স্মার্ট কার্ড দেয়া শুরু হলেও প্রবাসীদের ভোটার করার প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। ফলে বিষয়টি আটকে থাকে।

এর আগে গত বছরের এপ্রিলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে একটি আলোচনা সভা করেছিল নির্বাচন কমিশন।

ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যেসব দেশে পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঝামেলা কম, সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে এনআইডি সেবা চালুর পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সিঙ্গাপুরেই পাইলট প্রকল্পের প্ল্যান করেছি। সেখানে বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবা দিতে পারলে পরে অন্য দেশেও কাজ করতে পারব।

‌‘একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুরে যাবে, তারা সেখানে গভার্নমেন্ট টু গভার্নমেন্ট আলোচনা করবে। সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও সবার সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দেবে,’ বললেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ইসির অনুমোদন পেলে মধ্য ফেব্রুয়ারিতেই প্রতিনিধি দলটি সিঙ্গাপুরে যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধন কীভাবে করা যায়, কোথায় নিবন্ধন সেন্টার হবে, লোকবল কেমন লাগবে, পদ্ধতিগত কী কী জটিলতা থাকতে পারে – সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে তারা প্রতিবেদন দেবে।

সিঙ্গাপুরে সফল হলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে বলে জানান এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্মার্ট কার্ডই দিতে চাই।

সিঙ্গাপুরে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশের হাতে যন্ত্র পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ৭৫ লাখের মত।

Leave A Reply

Your email address will not be published.