রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে তিন এনজিওকে নিষেধাজ্ঞা

0

নিউজ ডেস্ক: সন্দেহজনক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তিনটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে (এনজিও) রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে নিষেধ করেছে সরকার। এগুলো হচ্ছে—মুসলিম এইড বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ ও আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মুহাম্মদ ফারুক খান, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স এবং মাহজাবিন খালেদ অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য মাহজাবিন খালেদ বলেন, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তিনটি এনজিওকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা অন্য কোনো কারণে সেখানে কাজ করছিল বলে মনে হয়েছে। এই তিন প্রতিষ্ঠান এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেয়নি।

অনুমতি ছাড়া অন্যদের কার্যক্রমও বন্ধ করতে বলা হয়েছে বলে জানান মাহজাবিন খালেদ।

বৈঠক সূত্র জানায়, এই তিনটি এনজিওর নাম উল্লেখ করে বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব জানান, এসব এনজিওর কার্যত্রক্রম শুধু ত্রাণ তৎপরতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আপাতত তাদের কার্যত্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার সময় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে তিনটি এনজিওকে সরকার থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। ওই তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল—অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, মুসলিম এইড-ইউকে এবং মেদসা সঁ ফ্রতিয়ে-এমএসএফ।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্যক্রমে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ফোকাল পয়েন্ট মো.শাহ আলম বলেন, ওই তিন এনজিও সম্পর্কে তাদের কাছে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওই তিনটি এনজিওর বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। আর গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরুর পর বাংলাদেশে এসেছে আরও পাঁচ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি সমন্বয়ে বর্তমানে সেনাবাহিনী কাজ করছে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে বৈঠকে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ‘স্বচ্ছ ধারণা দিতে’ পাঠ্যপুস্তকে একটি অধ্যায় সংযোজন করতে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।

আসন্ন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনসহ (সিপিএ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি যথাযথভাবে উত্থাপনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের কাছে মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংক্ষিপ্তসার সরবরাহ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

Share.

About Author

Leave A Reply

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com