ব্যাংকের গোপন প্রতারণা, বিধিবদ্ধ সুদের অতিরিক্ত টাকা কাটা বন্ধ করতে হবে

0

ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, জালিয়াতির খবর নিয়ে সবাই যখন অতিষ্ঠ, তখন চুক্তিবহির্ভূতভাবে গোপনে প্রতারণা করে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অংকের সুদ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি যে বড় ধরনের নৈতিকতাবিরোধী জোচ্চুরি, তা বলাই বাহুল্য। জানা যায়, বড় একটি শিল্প গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ব্যাংক অতিরিক্ত ৬ কোটি টাকা কেটে নেয়ার পর তাদের সন্দেহ হলে নিজেদের একাধিক নিরীক্ষায় দেখা যায় বিধিবদ্ধ সুদের বাইরে ওই টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। উদ্বেগের বিষয়, প্রতারণা করে কেটে রাখা অর্থের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ; কিন্তু পরে প্রমাণ হাজির করলে তড়িঘড়ি ওই টাকা ফেরত দেয়া হয়

এ থেকে সহজেই অনুমেয়, গ্রাহকের অগোচরে অর্থ কেটে রাখার কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে ব্যাংক। কৌতূহলবশত একই কোম্পানি অন্য ছয়টি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টও চেক করলে সেখানেও এভাবে ১৯ কোটি টাকা বাড়তি কেটে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্য সেই টাকা ফেরত দেয়া হয় পরে। এ তো গেল বড় গ্রুপ অব কোম্পানির মোটা অংকের টাকা গোপনে মেরে দেয়ার চেষ্টার কথা, সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নামে-বেনামে বিভিন্ন সার্ভিসের কথা বলে কত টাকা কেটে রাখছে ব্যাংকগুলো তার কোনো হিসাব নেই। কারণ, একশ’-দু’শ টাকা কাটার হিসাব সাধারণত কোনো গ্রাহকই রাখেন না। এ সুযোগে গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা মেরে দিচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বিধিবদ্ধ নিয়মের বাইরে বড়-ছোট গ্রাহকদের এভাবে টাকা কেটে নেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।

ব্যাংকিং খাত যে কোনো দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রাণ। আর গ্রাহকরা হলেন ব্যাংকের প্রাণ। নৈতিক ও পেশাদারিত্বের কত অধঃপতন হলে ব্যাংক তার জীবনীশক্তি তথা গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে, আলোচ্য ঘটনা তা দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা মনে করি, অভিযুক্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি অন্য ব্যাংকেও এমন অপকর্ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। ঋণ জালিয়াতি, লুটপাট ও জোচ্চুরি করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণেই ব্যাংকগুলো হেন কোনো অপকর্ম করতে পিছপা হচ্ছে না, গোপনে গ্রাহকের ওপর সুদারোপ করছে। দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর সাজাই কেবল এমন অনিয়ম রুখতে পারে।

দেশে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একের পর এক লুটপাট, দুর্নীতি-অনিয়মের শাস্তি না হওয়ার কারণেই অভিনব প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। জনগণের শ্রম-ঘামের আমানত ছলেবলে-কৌশলে আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের বিকল্প নেই। খোদ অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও এ ধরনের কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত ফাইলবন্দি হয়ে থাকা সন্দেহের উদ্রেক করে বৈকি। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফেরাতে সরকারের শীর্ষ মহলকে এদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এর বাইরে সরকারি ব্যাংকে রাজনৈতিক বিবেচনায় এমডি-চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগ বন্ধ এবং লুটপাট, ঋণ কেলেঙ্কারি, চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি গোপনে সুদ কাটার মতো প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর সাজার উদ্যোগ থাকতে হবে।

Share.

About Author

Leave A Reply

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com