‘মূল হোতাদের শাস্তি বহাল থাকাটাই স্বস্তির’

0
ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার সরকারি কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়েকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে জোর করে বিষজাতীয় কিছু একটা খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের পাশে অবস্থিত ‘হাজী মঞ্জিলের’ সামনে থেকে মাইশাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। সেখানে জোর করে নেশা বা বিষ জাতীয় কিছু মেশানো মিষ্টি খাইয়ে দেওয়ার পর সে কৌশলে রক্ষা পায়। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে মাইশাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকার ‘বিএইচ ইউনিভার্সিটির’ ‘এ’ লেভেলের ছাত্রী।
মেয়েকে উদ্বৃত করে অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী সমকালকে বলেন, “বিকেলে পাঁপড়ি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উল্টো দিকে অবস্থিত হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তার মামা তৌহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায়। সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে পড়া শেষ করে নিচে নেমে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল সে। ওই সময় স্যুট পরিহিত একজন হ্যান্ডসাম ব্যক্তি একটি কেরিনা গাড়ি থেকে নেমে পাঁপড়ির কাছে এসে জানতে চায়, ‘সে নারায়ণগঞ্জের পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে কি না?’ ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর পেয়ে অপহরণকারী নিজেকে তার বাবার বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয়। একইসঙ্গে অপহরণকারী নিজেকে সাংসদ শামীম ওসমান ও আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার কাজলের বন্ধু হিসেবেও নিজের পরিচয় উপস্থাপন করে।
এরপরই অপহরণকারী পাঁপড়িকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘গতকাল তো (মঙ্গলবার) তোমার বাবার জন্য একটি বিশেষ দিন ছিল। তোমার বাবা ৭ খুনের যে মামলা নারায়ণগঞ্জে লড়েছিল সেই মামলায় হাইকোর্ট আসামিদের রায় বহাল রেখেছে। এজন্য তোমাকে মিষ্টি খাওয়াতে এসেছি।’ এ কথা বলেই জোর করে পাঁপড়ির মুখে একটি মিষ্টি গুঁজে দিয়েই পানি খাইয়ে দেয়। ওই সময় সে সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করতে পেরে অপহরণকারীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় এসে একটি রিকশায় উঠে পড়ে এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে আমাকে জানিয়ে কাঁদতে শুরু করে। পরে রিকশার পেছন দিয়ে তাকিয়ে দেখে, তাকে অপহরণের চেষ্টাকারী ওই ব্যক্তি সাদা রঙের কেরিনা গাড়িতে চড়ে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকার দিকে চলে যাচ্ছে।”
অ্যাডভোকেট খোকন আরও জানান, এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মেয়ের কাছে সব শুনে তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কতর্ব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
মাইশার বাবা অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগেরও নেতা।

এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে সে ব্যাপারে কোন ধারণা দিতে পারেননি অ্যাডভোকেট খোকন।

এদিকে, এ খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মাহাবুবুর রহমানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রাত সাড়ে ৮টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ‘কলেজছাত্রী পাঁপড়ি এখন অসুস্থ। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছে, একটি প্রাইভেটকার যোগে আসা তিন ব্যক্তি পাঁপড়িকে অপহরণের চেষ্টা করে। অপহরণকারীদের একজন পাঁপড়িকে কিছু খেতে বাধ্য করে, যাতে নেশা জাতীয় বা বিষ জাতীয় কিছু মেশানো ছিল। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।’
এ ঘটনার সঙ্গে সাত খুন মামলার কোন যোগসূত্র রয়েছে কি-না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু ভিকটিম এখন অসুস্থ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা যাচ্ছে না। সে কিছুটা সুস্থ হলে তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তাছাড়া এ বিষয়ে মাইশার বাবা পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনের সঙ্গেও পুলিশ কথা বলবে বলে জানান তিনি।
সাত খুনের মামলার রায়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন ও মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিল। এরপর হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের রায়ে মঙ্গলবার নূর হোসেন, তারেক, আরিফ ও রানাসহ ১৫ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পরদিনই এ ঘটনা ঘটলো।
সদর মডেল থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ জানান, তারা খবরটি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অপহরণ চেষ্টাকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা।
Share.

About Author

Leave A Reply

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com