সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করার ভ্যাট

0

সরকার শিক্ষার প্রসারের কথা বলছে, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলছে; কিন্তু কাগজের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে। এটা চিন্তা করা যায় না।

এতে কী হবে? এতে যে ছেলে-মেয়েরা নিউজপ্রিন্টে লিখত তাদের পরিবারের খরচ বেড়ে যাবে। সংবাদপত্রের উত্পাদন খরচ বেড়ে যাবে। এতে বহু সংবাদপত্র ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এমনকি বড় বড় সংবাদপত্রে আর্থিক টানাটানি দেখা দেবে। মফস্বল থেকে যেসব সংবাদপত্র বের হয়, তা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না, বন্ধ হয়ে যাবে।

সংবাদপত্র মত প্রকাশের বড় একটি জায়গা, এটি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে সমাজে মানুষ কী চিন্তা করছে, তার প্রকাশ ঘটবে না। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়। সরকার মূলত সংবাদপত্রের টুঁটি চিপে ধরতে চায়, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে চায়। এর জন্য সংবাদপত্রশিল্পের ওপর নানাভাবে ভ্যাট বসিয়েছে। সরকারের এমন ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত নিন্দনীয়। সরকারের উচিত, দ্রুত এই খাতের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করা।

সরকার তার বিরুদ্ধে সমালোচনা দেখতে চায় না। এটা সাধারণভাবে সব সরকারেরই চরিত্র। এ কারণে নানাভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বাংলাদেশের সরকারগুলো। সাম্প্রতিক সময় সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপন কমেছে। ই-টেন্ডার হওয়ার কারণে সংবাদপত্রে ক্ষুদ্র আকারে বিজ্ঞাপন দিলেই হয়। ফলে সরকারি দরপত্রে যে বড় বড় বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো, সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। আবার সরকারি বিজ্ঞাপনের যে রেট (দর) আর বেসরকারি বিজ্ঞাপনের যে রেট তার মধ্যে পার্থক্য অনেক। বেসরকারি বিজ্ঞাপনের তুলনায় অনেক কম দামে সরকারি বিজ্ঞাপন ছেপে থাকে পত্রিকাগুলো। এর মধ্যে নতুন সংকট ডেকে আনবে, কাগজের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট।

আগে সংবাদপত্রের জন্য আমদানি করা নিউজপ্রিন্টের ওপর ভ্যাট ছিল না। এবার সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসছে। আবার দৈনিক পত্রিকায় যেসব বিজ্ঞাপন ছাপা হবে এর ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসছে। এ ছাড়া সংবাদপত্রে ছাপা হওয়ার কালি, প্লেটের ওপরও বসেছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। এত ভ্যাট দিয়ে একটি পত্রিকা কিভাবে চলবে?

আজকের দুনিয়াতে এমনিতেই অনলাইনের কারণে দৈনিক পত্রিকাগুলো সংকটে পড়েছে। এর ওপর সংবাদপত্রের সব বিষয়ে যদি ভ্যাট দিতে হয় তাহলে এ শিল্পের মৃত্যু ঘটবে। যদি আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সমাজ চাই তাহলে আমাদের কথা বলার জায়গা সংকুচিত করা যাবে না। সংবাদপত্রের বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। সরকারের উচিত হবে, দ্রুত সংবাদপত্রশিল্প খাতে সব ধরনের ভ্যাট প্রত্যাহার করা। একই সঙ্গে কাগজের ওপর সব ধরনের ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। কারণ জ্ঞানভিত্তিক একটি আধুনিক সমাজ নির্মাণ করতে হলে মানুষকে কথা বলতে দিতে হবে, জানতে দিতে হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অনুলিখন : আরিফুজ্জামান তুহিন

Share.

About Author

Leave A Reply

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com