গুলশানের কফিশপে কানাডার উগ্রপন্থী ফেরারি সালমান

0

ঢাকা: ‘ইহুদি গণহত্যার উসকানিদাতা’ অভিযুক্ত কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক পুলিশ ও ইন্টারপোলের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিকৃত সালমান হোসাইনকে (৩২) রাজধানী ঢাকার গুলশানের একটি কফিশপের সামনে দেখা গেছে। গত রোববার তিনি একজন ফটোগ্রাফারের ফ্রেমে বন্দি হন বলে জানিয়েছে কানাডার ন্যাশনাল পোস্ট।

রূপালী রঙের একটি টয়োটা করোলায় চড়ে ওই কফিশপে গিয়েছিলেন সালমান। সেখানেই তার একটি ছবিও তুলেছেন এক আলোকচিত্রী। ওই আলোকচিত্রী সালমানের আরও কিছু সাম্প্রতিক ছবি ন্যাশনাল পোস্টকে দিয়েছেন, যেখানে বনানীর একটি অভিজাত হোটেল ও উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকাতেও তাকে দেখা গেছে বলে পত্রিকাটির তথ্য।

২০১০ সালের জুলাই মাসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের কিছুদিন আগেই সালমান টরোন্টো থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। পরে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস জারি করা হয়। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ১৬ বছর পর্যন্ত জেল খাটতে হতে পারে বলে ন্যাশনাল পোস্ট জানিয়েছে।

ন্যাশনাল পোস্ট লিখেছে, অভিযোগ দায়েরের কিছুদিন আগে সালমান কানাডা ছেড়ে গেলেও ইন্টারনেটে নিজের উপস্থিতির প্রমাণ রেখেছেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে ইউটিউবে পোস্ট একটা করা একটি ভিডিওতে একটি ছাগল জবাই করার সময় তাকে বাংলায় কথা বলতে শোনা যায়।

ইউটিউবে ওই ভিডিওর নিচে লেখা আছে, ‘এভাবেই ইহুদি এবং তাদের ক্রীতদাসদের নিধন করা দরকার। যখন তারা ধরা পড়বে বিশ্বব্যাপী তখন তাদের শাস্তি হবে। সেখানে আরও লেখা রয়েছে, দায়েশ তোমরা কি ইসরাইল এবং গুরুত্বপূর্ণ ইহুদিদের টার্গেট করার কর্তব্যপালন ভুলে গেছো।’

টরেন্টোর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত স্টাফ সার্জেন্ট পিটার লিওন বলেছেন, ‘এই ব্যক্তি এখনো আইনের চোখে ফেরার। লিওনের কথায়, কানাডার ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে গণহত্যার সংশ্লিষ্টতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা সাত বছর পরে তাকে খুঁজে পেয়েছি। এবং তাকে সোপর্দ করতে আমাদের পক্ষে সম্ভব সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

সালমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছেন বর্তমান পুলিশ কমিশনার ভিং ছকস। তিনি বলেছেন, ফেডারেল এবং প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষে সঙ্গে পুলিশ তার প্রত্যার্পণ বিষয়ে বিকল্পগুলো পরীক্ষা করে দেখছে। পুলিশ কমিশনারের কথায়, তার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে কানাডার পুলিশ তার বিচারের জন্য কানাডার মাটিতে তাকে পাবেই।

তবে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের সার্জেন্ট হ্যারল্ড প্লেইদেরার ন্যাশনাল পোস্টকে বলেছেন, ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলো নিজেরাই ঠিক করে- কোন রেড নোটিসের ক্ষেত্রে তারা কতটা গুরুত্ব দেবে। ফলে রেড নোটিস জারি হলেই আসামিকে গ্রেফতার করে ফিরিয়ে আনা যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।

Share.

About Author

Leave A Reply

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com